অধ্যবসায় – ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের গল্প | নবম শ্রেণির ছাত্রী নাজিয়া সুলতানা
বারবার ব্যর্থ হয়েও চেষ্টা না ছেড়ে কীভাবে কাজেম সাফল্য অর্জন করল—অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
আমাকে নিয়ে লেখা আমার এক ছাত্রীর লেখা এই গল্প, গল্পের বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে যথার্থ না হলেও তার লেখার ইচ্ছা - কৌশল - শব্দ বাছাই - ভাষার যথার্থ প্রয়োগ - শিক্ষকের প্রতি সম্মান -- সব কিছুই আমার মন ছুঁয়ে গেছে এই গল্প পড়ে।
🌿 অধ্যবসায়
একদা এক গ্রামে কাজেম নামে একটি অনাথ ছেলে বাস করত। ছোটবেলাতেই সে তার বাবা-মাকে হারিয়েছিল। আপনজন বলতে তার তেমন কেউ ছিল না। গ্রামের এক দরিদ্র পরিবার তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। সেই পরিবারের সাহায্যেই কাজেম গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। সে ছিল অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও বিনয়ী স্বভাবের ছেলে। তবে পড়াশোনায় সে খুব একটা ভালো ছিল না। বিশেষ করে গণিত বিষয়টি তার কাছে খুব কঠিন মনে হতো।
বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা যতই তাকে বুঝিয়ে দিতেন, কাজেম ততই মন দিয়ে শেখার চেষ্টা করত। কিন্তু বাড়িতে ফিরে গণিতের খাতা খুললেই সে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতো। অনেক অঙ্ক বারবার চেষ্টা করেও সে সমাধান করতে পারত না। ফলে পরীক্ষায় গণিতে তার নম্বর খুব কম আসত। এ কারণে কয়েকজন সহপাঠী তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। কেউ কেউ তাকে বলত, “তুমি কোনোদিনই গণিতে ভালো করতে পারবে না।”
একবার বার্ষিক পরীক্ষায় গণিতে কাজেম খুব খারাপ ফল করল। ফল প্রকাশের পর সে ভীষণ মন খারাপ করল। তার এই ফলাফলের জন্য অনেকে তাকে তিরস্কার ও অবহেলা করতে লাগল। কাজেমের মনে হলো, সে হয়তো সত্যিই কোনোদিন গণিতে ভালো করতে পারবে না। কিন্তু সে হাল ছেড়ে দেওয়ার ছেলে ছিল না।
একদিন তার গণিতের শিক্ষক কাজেমকে কাছে ডেকে বললেন, “কাজেম, মনে রেখো—জীবনে একবার ব্যর্থ হওয়া মানেই চিরদিন ব্যর্থ থাকা নয়। যে মানুষ নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বারবার চেষ্টা করে, সাফল্য একদিন তার কাছে আসবেই। তোমাকে শুধু ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করতে হবে।”
শিক্ষকের কথাগুলো কাজেমের মনে গভীরভাবে দাগ কাটল। সে সেদিনই সিদ্ধান্ত নিল, যত কঠিনই হোক, সে গণিত শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এরপর থেকে সে প্রতিদিন নিয়ম করে পড়তে শুরু করল। যে অঙ্কগুলো পারত না, সেগুলো সে বারবার করার চেষ্টা করত। ভুল হলে আবার খাতায় করত। কোনো অঙ্ক কিছুতেই বুঝতে না পারলে পরের দিন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞাসা করত।
প্রথম দিকে অনেক চেষ্টা করেও কাজেম সফল হতে পারত না। কখনো একই অঙ্ক পাঁচ-ছয়বার করেও ভুল হয়ে যেত। তবুও সে হতাশ হতো না। সে মনে মনে বলত, “আজ না পারলেও কাল পারব। চেষ্টা করলে একদিন অবশ্যই সফল হব।”
এভাবেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাজেম পরিশ্রম করতে লাগল। ধীরে ধীরে তার গণিতের ভয় দূর হতে শুরু করল। যে অঙ্কগুলো একসময় তার কাছে অসম্ভব মনে হতো, সেগুলোই এখন সে সহজে সমাধান করতে পারত। তার আত্মবিশ্বাসও দিন দিন বাড়তে লাগল।
অবশেষে আবার পরীক্ষার সময় এল। কাজেম এবার আগের মতো ভয় পেল না। সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় বসল। প্রতিটি প্রশ্ন মন দিয়ে পড়ল এবং ধীরে ধীরে সব অঙ্ক সমাধান করল।
কয়েক দিন পর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। ফল হাতে নিয়ে কাজেম আনন্দে অবাক হয়ে গেল। গণিতে সে খুব ভালো নম্বর পেয়েছে! শুধু গণিতেই নয়, অন্যান্য বিষয়েও তার ফলাফল আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।
কাজেমের সাফল্যে তার শিক্ষক অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি সকলের সামনে বললেন, “দেখলে, অধ্যবসায়ের ফল কী! কাজেম প্রমাণ করেছে যে মেধার চেয়েও অনেক সময় নিয়মিত চেষ্টা, ধৈর্য ও পরিশ্রম মানুষকে সফল করে তোলে।”
কাজেম সেদিন বুঝতে পারল, জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে। কিন্তু ব্যর্থতায় ভেঙে পড়লে চলবে না। বারবার চেষ্টা করতে হবে এবং নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ অধ্যবসায়ী মানুষ কোনো বাধাকেই চূড়ান্ত বাধা মনে করে না।
সেদিন থেকে কাজেম জীবনের প্রতিটি কাজে অধ্যবসায়কে নিজের সঙ্গী করে নিল। তার জীবনের এই পরিবর্তন সকলের কাছে একটি শিক্ষার বিষয় হয়ে উঠল।
নীতিকথা :
“অধ্যবসায় সাফল্যের চাবিকাঠি। বারবার চেষ্টা করলে একদিন সাফল্য অবশ্যই আসে।”
✍️ লেখিকার পরিচয়
লিখেছেন : নাজিয়া সুলতানা
শ্রেণি : নবম
বিভাগ : ক
ক্রমিক সংখ্যা : ১৯
অধ্যবসায়ের গল্প
বাংলা গল্প
অনুপ্রেরণামূলক গল্প
ছোট গল্প
শিক্ষামূলক গল্প
ছাত্রছাত্রীদের গল্প
নবম শ্রেণির গল্প
সাফল্যের গল্প
পরিশ্রমের গল্প
বাংলা নীতিকথা
শিক্ষামূলক বাংলা গল্প
কাজেমের গল্প
নাজিয়া সুলতানা

Comments
Post a Comment
If you have any doubts, let me know or write us Kajemshaikh0365@gmail.com