শেক্সপিয়ারের পাঁচটি কমেডি নাটকের বই

 


শেক্সপিয়রের  নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে কমেডি, ঐতিহাসিক নাটক, ট্র্যাজেডি, রোমাঞ্চ। কমেডি-শেক্সপিয়রের উল্লেখযোগ্য কমেডি হলো লাভস লেবারস লস্ট, দি টু জেন্টলম্যান অব ভেরোনা, দি টেমিং অব দি শ্রু. কমেডি অব এররস, এ মিড সামার নাইটস ড্রিম, মার্চেন্ট অব ভেনিস, ম্যাচ অ্যাডো অ্যাবাহুট নাথিংস, টুয়েলফথ নাইট, অ্যাজ ইউ লাইক ইট। এর মধ্যে মাত্র কয়েকটিকে বাদ দিলে সমস্ত নাটক এক অসাধারণ সৌন্দর্যে উজ্জ্বল। প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত প্রাণবন্ত সজীবতায় ভরপুর। শেক্সপিয়রের বিখ্যাত কমেডিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কমেডি হলো দি মার্চেন্ট অব ভেনিস।

শেক্সপিয়রের শ্রেষ্ঠ ৩টি কমেডি হলো অ্যাজ ইউ লাইক ইট, টুয়েলফথ নাইট, ম্যাচ অ্যাডো অ্যাবাউট নাথিং। এই কমেডিগুলোর মধ্যে মানব জীবন এক অসামান্য সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে। হাসি কান্না আনন্দ সুখ দুঃখ মজার এক আশ্চর্য সংমিশ্রণ ঘটেছে এই নাটকগুলোর মধ্যে। নাটকের সেই সমস্ত পাত্র-পাত্রী যারা সকল অবস্থার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে, অন্যকে ভালোবেসেছে, তারাই একমাত্র জীবনে সুখী হতে পেরেছে। এই কমেডির নায়িকারা সকলেই আদর্শ চরিত্রের। অন্যের প্রতি তারা সহৃদয়। পরের জন্য তারা দ্বিধাহীন চিত্তে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দেয়। একদিকে তারা করুণাময়ী অন্যদিকে তারা বুদ্ধিমতী। শেক্সপিয়রের কমেডিতে নারী চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে পুরুষেরা ম্লান হয়ে যায়।

এর মধ্যে আমরা  বিখ্যাত পাঁচটি কমেডি  নাটক নিয়ে আলোচনা করলাম। আশা করি আপনাদের খূব ভালো লাগবে।


দি কমেডি অব এররস

যমজ দুই ভাই এবং তাদের নামও একই অ্যান্টিফলাস এবং তাদের দুই যমজ ভৃত্য, এদেরও নাম একটাই ড্রোমিও- এই প্রধান চারটি চরিত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে দি কমেডি অব এররস নাটকের হাস্য রস মুখর কাহিনী । এক ভাইয়ের ভৃত্য অন্য জনের সঙ্গে দেখা হলে পরস্পর কথা - কাজ - আচরণের যে বৈপরীত্য দেখা যায় অথচ চেহারা একই বলে নিজেদের ত্রুটি বুঝতে না পেরে যে কৌতুককর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাকে শেক্সপীয়ার সুন্দর ভাবে পরিবেশন করেছেন এই নাটকে। অবশ্য নাটকের শেষে এই ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হয়েছে  এবং তাদের পিতা মাতার সঙ্গে মিলিত হয়ে দুই ভাইয়ের ভ্রান্তি বিলাস শেষ হয়েছে । দি কমেডি অব এররস - এ নাট্যকার জীবনের কোনো জটিল রূপ, কোনো সমস্যা বা সাহিত্যিক কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষায় মগ্ন নন, এই নাটকের মাধ্যমে দর্শককে তিনি উপহার দিতে চেয়েছেন প্রচুর হাস্যরস। তিনি তাতে সফল হয়েছেন ।


এ মিডসামার নাইটস ড্রিম

এই নাটকের জগৎ এক সম্পূর্ণ কল্পলোক। হার্মিয়া, হেলেন, লাইস্যান্ডার এবং ডেমেট্রিয়াস - এই চার তরুণকে নিয়ে গড়ে উঠেছে নাটকের প্রেম বিষয়ক কল্পকাহিনী । তাছাড়া ডিউক থেসিয়াস ও রানী হিপোলাইটা - র পরিণয় ঘটনা নাটকে সুন্দর আবহ সৃষ্টি করেছে। নাটকের ঘটনা ধারা অবতিত হয়েছে এথেন্সের কাছাকাছি একটা অরণ্যে। ঘটনা ক্রমে পরীদের আসা ও তাদের সক্রিয় ভূমিকার কথা রূপকথার পরিবেশ তৈরি করেছে । শেক্সপীয়ার যে কেবল জীবনের গভীর সত্যানুসন্ধানী নন, তিনি যে হালকা চালে স্বপ্নময় কল্পলোক সৃষ্টি করেছেন, এই নাটক তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ । এমনকি বটম নামে এক তাতির কথাবার্তা ও আচরণ থেকে উৎসারিত হয়েছে অনুপম হাস্যরস এবং নাটকটিকে এক নতুন মাত্রা দান করেছে।

শেক্সপিয়ারের পাঁচটি ট্রাজেডি নাটকের বই

অ্যাজ উই লাইক ইট

শেক্সপিয়ারের কমেডি গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় নাটক এটি । নাটকে দেখা যায়, ভাইয়ের চক্রান্তে রাজ্য থেকে নির্বাসিত হয়ে ডিউক সিনিয়ার তার সঙ্গীদের নিয়ে আর্ডেনের অরণ্যে চলে এসেছেন । ডিউকের লোভী ভাই ফ্রেডরিক ও তার মেয়ে সিলিয়া এবং ডিউক সিবিয়ারের মেয়ে রোজা লিন্ড। সিলিয়া ও রোজা লিন্দ দুজনে ভালো বন্ধু। তারাও সেই জঙ্গলে চলে আসে। অন্য দিকে কাহিনীর নায়ক অরল্যান্ডো এবং তার ভাই অলিভার ও চলে আসে অরণ্যে। এরপর রজালিন্ডের সঙ্গে অরল্যান্ডো এবং সিলিয়ার সঙ্গে আলিভারের প্রেম গড়ে উঠে। অলিভার বিপদে পড়লে অরল্যান্ডো তাকে রক্ষা করে। ফলে তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নীত হতে থাকে । তারপর  সিলিয়া ও  অলিভার বিয়ে করে । সিলিয়ার উদ্যোগে ফ্রেডরিক এর সঙ্গে সিনিয়রের সম্পর্কের উন্নতি হয়।অরল্যান্ডো ও রজালিন্ড বিয়ে করে। ডিউক সিনিয়ার রাজ্যে ফিরে আসেন । চার জোড়া প্রেমের বিচিত্র মূর্তি দেখানো হয়েছে এখানে - রজালিন্দ ও অরল্যান্ডো, সিলীয়া ও অলিভার, টাচস্টন ও অদ্রি এবং সিলভিয়াস ও ফিবি। এই চার যুগলের প্রেম - সমস্যা - মিলন - বিবাহের মধ্যে দিয়ে কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে ।সব মিলিয়ে নাট্যকার যেন প্রেমের বিশ্ব রূপ দর্শন করাতে চাইছেন তার দর্শকদের।  রোমান্স, প্রেম, প্রকৃতি ও সংগীতের সুরের সঙ্গেই নাট্যকার হাজির করেছেন হাস্যরস।


মার্চেন্ট অব ভেনিস

অ্যান্টোনিও ভেনিসের প্রসিদ্ধ বণিক। তার বন্ধু ব্যাসনিও। অ্যান্টোনিও র বাণিজ্য তরী গুলি যখন দুর দেশে যায়, তখন ব্যাসোনিও এসে তিন হাজার দুকাত চাইলো। কারণ সে পর্শিয়াকে বিয়ে করবে।কিন্তু অ্যান্টনির কাছে টাকা না থাকায় সে ধার করতে যায় ইহূদী শ্যাইলকের কাছে। কিন্তু শ্যাইলোক টাকা দেওয়ার আগে শর্ত রাখে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে না পারলে তার শরীরের যে কোনো অংশ থেকে সে এক পাউন্ড মাংস কেটে নেবে। অ্যান্টোনিও জানতে তার জাহাজ ফিরে আসবে।  কিন্তু  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দিতে পারেনি, কারণ তার জাহাজ ফিরে আসেনি। শ্যাইলক কোর্টে গেলো। আসল কাহিনী শুরু হয় কোর্টেই। বিচারপতি শ্যাইলোকের পক্ষে রায় দেবার পূর্বে পুরুষের ছদ্ম বেসে পর্শিয়া সেখানে হাজির হয়ে কোর্টে লড়াই করে। সে আদালতে জানায়, শ্যাইলোক্ তার শর্ত মতো অ্যান্টোনিও র শরীর থেকে ঠিক এক পাউন্ড মাংসই নেবে তার বেশি বা কম নিতে পারবে না, আর সেই মাংসই সে নিতে পারবে এক ফোঁটা রক্ত নিতে পারবে না। শ্যাইলোক বিপদে পড়লো, কেননা এক পাউন্ড মাংস শরীর থেকে কেটে নেওয়া সম্ভব নয়, বেশি বা কম হবেই, আর মাংসের মধ্যে রক্তও থাকবে। এবার পরশিয়া প্রমাণ করে দেয় যে, শ্যাইলোকের উদ্দেশ্য টাকা ওসুল করা না, অ্যান্টোনিও র প্রাণ নেওয়া। ফলে শ্যাইলোকের শাস্তি হিসেবে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হলো , অর্ধেক সম্পত্তি কন্যা জেসিকা কে দান করা হলো। এই ভাবে অপরাধীর শাস্তি এবং বন্ধু মিলনের মধ্যে দিয়ে নাটকের সমাপ্তি ঘটে। যদিও কমেডি নাটকের সাধারণ হাস্যরস ঘটনা ধারাতে অনুপস্থিত , এমনকি ট্র্যাজেডির রস পরিণতির গাম্ভীর্য এখানে নেই। তবে কমেডি নাটকের মিলন মধুর সমাপ্তি এবং আরো কিছু উপাদান আর ট্র্যাজেডির নাটকের পরিচ্ছন্নতা, সংহতি, ঘটনার তীব্র সাসপেন্স ইত্যাদি বৈশিষ্ট নিয়ে এই নাটক গড়ে উঠেছে ।

শেক্সপিয়ারের পাঁচটি ট্রাজেডি নাটকের বই


টুয়েলফ্থ নাইট

"টুয়েলফ্থ নাইট"- নামটা দেখে অনেকেরই মনে হবে, বড়দিনের উৎসবের পর ৬ই জানুয়ারি এই নাটকটি অভিনীত হবার উদ্দেশ্য রচিত । কিন্তু সেটা নয়, এর বিকল্প নাম ছিল " হোয়াট ইউ উইল"

ইলিয়ার কাছাকাছি সমুদ্রে জাহাজডুবি হয়েছিল। ফলে দুই যমজ ভাই বোন সেবাস্টিয়ান ও ভায়োলা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । পরে ভায়োল সিজারিও নামে এক যুবককে ছদ্মবেশ নিয়ে ডিউক আর্সিনো র ভৃত্য হয়ে কাউন্টেস অলিভিয়ার কাছে যায়। তার কাজ ছিল আর্সিনোর প্রণয় ও বিবাহ প্রস্তাব অলিভিয়া কে জানানো । কিন্তু অলিভিয়া সিজারিওর প্রেমে পড়ে যায় ।তবে সে জানতো না যে সিজারীও একজন মেয়ে । এরপর সেবাস্টিয়ান ইলিথিয়ায় পৌঁছালে, পুরনো এক অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয় । আর সেবাস্টিয়ান কে সিজারি়ও ভেবে অলিভিয়া তাকে বিয়ে করে ফেলে ।একদিন অর্সিনো ও সিজারিও আসে অলিভিয়ার কাছে। অলিভিয়া সিজারিও কে তার স্বামী ভেবে । তখন সেখানে উপস্থিত হয় আসল সেবাস্টিয়ান। তারপর সকল জটিলতার নিরসন হয় । সেবাস্টিয়ান ও ভায়োলার মিলন হয়। আর্সিনোকে প্রথম থেকেই ভালোবাসতো ভাযোলা, তাদের বিবাহ হয়। সব সমস্যা শেষ মিলন মধুর পরিনতি মধ্যে দিয়ে নাটক সমাপ্তি ঘটে ।  এখানে প্লট রচনায় নাটকার অসাধারণ সার্থকতার পরিচয় দিয়েছেন । তবে এর কাহিনী শেক্সপীয়ার বারানবে রিচের "ফেয়ার ওয়েল টু দি মিলিটারি প্রফেশন" - এর "অ্যাপোলিনিয়াস অ্যান্ড সিলিযা" - কে নাট্য কাহিনীর উৎস বলে মনে করা হয়। তবে যায় হোক, হাস্যরসের অফুরন্ত যোগানও এই নাটকের আরেক লক্ষণীয় বিষয়।

WWW.EVERYTHING0365.BLOGSPOT.COM

FACEBOOK




Post a Comment

If you have any doubts, let me know or write us Kajemshaikh0365@gmail.com

Previous Post Next Post

Ad 1

Ad 2

🔥 WBSSC 20 PRACTICE SET PDF

JUST RS-29/- ONLY

DOWNLOAD NOW
Close

🔔 YouTube Channel Subscribe करें

SSC GD Exam Preparation के लिए अभी Subscribe करें